নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:৩৫
ভারত থেকে বয়ে আসা নদ-নদীর উৎসমুখে থাকা এসব কোয়ারিতে প্রতি বছর জমা হয় পাথরের বিশাল ভাণ্ডার। বিশেষ করে জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও লোভাছড়া এসব ভাণ্ডারের দেখা মেলে।
আগে এসব কোয়ারি ইজারা নিয়ে বালু-পাথর উত্তোলন করা হতো। একপর্যায়ে যান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হলে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০১০ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধের জন্য রায় দেন। পরে বেলার আরেকটি রিট আবেদনের রায়ের ফলে জাফলংকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়।
চোরাই পথে রমরমা
২০২০ সালের ৮ জুন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এক চিঠির মাধ্যমে সারা দেশের পাথর, সিলিকা বালু, নুড়িপাথর ও সাদা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকেই সিলেটের কোয়ারিগুলোতে পাথর উত্তোলন বন্ধ আছে। তবে বৈধ পথ বন্ধ থাকলেও প্রতিনিয়ত লুট হচ্ছে বালু-পাথর।
মাঝে-মধ্যে অভিযানও হয়, কিন্তু থামানো যায় না অবৈধ কারবারিদের। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় শত কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে জাফলং ও ভোলাগঞ্জ থেকে।
সম্প্রতি জাফলং এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল ও অভিযান জোরদার করায় এখানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় কিছুটা কমেছে বালু-পাথর লুট। তবে থেমে নেই খেকোরা, লুট করছেন অন্যান্য এলাকা থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাথর লুট ঠেকাতে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় আনসার ক্যাম্প স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করেন আনসার সদস্যরা। এছাড়া ঘন ঘন চালানো হয় টাস্কফোর্স অভিযান। ফলে কয়েকদিন ধরে জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে বালু-পাথর লুট হচ্ছে না।
বিএনপি নেতাদের পোয়াবারো
স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়টি অনেকটা ওপেন-সিক্রেট। এ ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম সামনের কাতারে থাকলেও এবার উঠে এসেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম। পাথরলুট কাণ্ডে জড়িত থাকায় ইতোমধ্যে দুই নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই মাত্র দুদিনে জাফলং ও ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে সিলেট জেলা বিএনপির দুই নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তারা হলেন, জেলা বিএনপিনেতা রফিকুল ইসলাম শাহপরান ও শাহ আলম স্বপন। তাদের প্রধান সহযোগী হিসেবে রয়েছেন পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স।
এদের বিরুদ্ধে কয়েক দিন আগে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বালু-পাথর লুট, চাঁদাবাজি ও হামলা-মামলার অভিযোগ করেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলাও করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তাদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে।
প্রশাসনের চোখের সামনে লুট
জিরো পয়েন্টের অদূরে নয়াবস্তি এলাকা থেকে প্রতিদিন রাতে বালু-পাথর লুট করা হচ্ছে। ভোলাগঞ্জেও লুটতরাজ বেড়েছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ ঘনফুট পাথর ও বালু লুট হচ্ছে সেখান থেকে। সাদাপাথর যাওয়ার নৌকাঘাট থেকে ভোলাগঞ্জের ১০নং বাংকার এলাকাজুড়ে পুলিশ-বিজিবির চোখের সামনে দিনের বেলায় লুট হচ্ছে বালু-পাথর।