আন্তর্জাতিক

‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেব’, জানাজায় লাখো ইরানির হুঙ্কার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৪ঠা জুলাই ২০২৬, ২০:৪২

‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেব’, জানাজায় লাখো ইরানির হুঙ্কার


তীব্র শোক, ক্ষোভ আর কঠোর প্রতিশোধের আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের নিজ বাসভবনে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি এই নেতা। দীর্ঘ চার মাস পর, চলমান যুদ্ধবিরতির সুবাদে আজ শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমামে খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।


সকাল থেকেই খামেনি এবং তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিন জনসমক্ষে আনা হলে পুরো তেহরান এক আবেগঘন ও শোকার্ত নগরীতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কফিনে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে এবং পাশেই রয়েছে হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছোট ছোট কফিন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।


ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে লাখো মানুষের ঢল নামে। ভিড়ের কারণে অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায়। তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। শোকের এই আবহ দ্রুতই রূপান্তরিত হয় রাজনৈতিক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মিছিলে।


উপস্থিত জনতার অনেকের হাতেই ছিল লাল পতাকা, যা ইরানি সংস্কৃতিতে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের প্রতীক। সমবেত জনতা সমস্বরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে থাকে। খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আসা ৪০ বছর বয়সী আরশ রাহিমি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেব। আমাদের নেতা যেমনটা বলতেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা রয়েছে। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই ভালো হওয়ার নয়।”


হামাদান প্রদেশ থেকে আসা আরেক শোকাহত নাগরিক হামিদ তিমোরি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমার বাবা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখনও আমি এতটা কাঁদিনি, যতটা কেঁদেছি আমাদের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ হওয়ার পর।”


উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের তীব্র সামরিক সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। চার মাস পর সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হলো। দীর্ঘ চার মাস পর খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) প্রধানও আজ জনসমক্ষে আসেন, যা এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সব খবর