নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩রা জুন ২০২৬, ১৯:৩৭
ভর্তুকির চাপ কমাতে পাইকারি ও গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে এবারের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে রেহাই পায়নি দেশের সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফ লাইন’ বা প্রান্তিক গ্রাহকেরাও। তাদের জন্য বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় পৌনে দুই কোটি নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবার নতুন করে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
বিইআরসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফ লাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এর ফলে মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহককে শুধু এনার্জি চার্জ বাবদই প্রায় ৩৭ টাকা বেশি দিতে হবে। তবে বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত বিলের ওপর চাপ আরও বেশি হবে। কারণ শুধু ইউনিট মূল্যই বাড়েনি, এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও মিটার ভাড়াও যুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে প্রান্তিক গ্রাহকদের আগের তুলনায় প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বেশি বিল পরিশোধ করতে হতে পারে।
দেশে বর্তমানে লাইফ লাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আওতায় রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ, যা মোট প্রান্তিক গ্রাহকের সিংহভাগ। ফলে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের ওপরই এই আর্থিক চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে। চলতি জুন মাস থেকেই এই নতুন মূল্যহার কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের ভর্তুকির চাপ কমানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে লাইফ লাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম, অর্থাৎ ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।”
পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকি কমাতে অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার কমানো এবং বড় খরচের খাত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা পেমেন্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে খরচ কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।
তবে সাধারণ মানুষের মতে, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যের বাজারে বিদ্যুৎ বিলের এই বাড়তি খরচ সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটে নতুন উদ্বেগ ও সংকটের সৃষ্টি করবে।