বিনোদন

কবরীর ‘এই তুমি সেই তুমি’: মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯শে জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৯

কবরীর ‘এই তুমি সেই তুমি’: মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘মিষ্টি মেয়ে’ সারাহ বেগম কবরীর জন্মদিন আজ। বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের এই প্রখ্যাত অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও নিজের একটি আলাদা ছাপ রেখে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও, তাঁর স্বপ্নের শেষ সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’ এখনো বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাননি দর্শক। সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় ধোঁয়াশা। একদিকে নির্মাতাপক্ষের দাবি ছবি প্রস্তুত, অন্যদিকে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে ভিন্ন কথা।


১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই জন্ম নেওয়া কবরী মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। এরপর ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। ২০০৬ সালে ‘আইনা’ সিনেমা দিয়ে পরিচালনায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি ভেঙে তিনি সরকারি অনুদানে শুরু করেছিলেন তাঁর দ্বিতীয় এবং শেষ সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’। এই ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ তিনি নিজেই লিখেছিলেন। এমনকি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এই সিনেমার জন্য গানও লিখেছিলেন তিনি।


২০২০ সালে করোনা মহামারির চরম আতঙ্কের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিনেমাটির শুটিং শুরু করেন কবরী। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছিল, বাকি ছিল মাত্র দুই দিনের শুটিং। কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। ফলে মাঝপথেই থমকে যায় তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট। মায়ের মৃত্যুর পর ছবিটির বাকি কাজ শেষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁর চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করা ছেলে শাকের চিশতী। মায়ের রেখে যাওয়া স্টোরিবোর্ড ও ডায়েরির পরিকল্পনা অনুসরণ করে তিনি ছবিটির অসমাপ্ত শুটিং, ডাবিং ও সম্পাদনার কাজ শেষ করেন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে জানানো হয়েছিল সিনেমাটি মুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


সম্প্রতি ছবিটির মুক্তি প্রসঙ্গে শাকের চিশতী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনের প্রস্তুতি হিসেবে সাবটাইটেল যুক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি দেশে মুক্তির জন্য সিনেমাটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্র পেলেই এটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে।


তবে এখানেই দেখা দিয়েছে বড় রকমের অসঙ্গতি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সূত্রগুলো নির্মাতাপক্ষের এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপপরিচালক মঈনউদ্দীন স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজ পর্যন্ত ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমাটি সার্টিফিকেশনের জন্য তাদের দপ্তরে জমা-ই পড়েনি।


অন্যদিকে, সরকারি অনুদানের নিয়ম অনুযায়ী শুটিং শেষ হওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুদানের তৃতীয় কিস্তির বকেয়া অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো আবেদনও জমা পড়েনি। ফলে প্রশাসনিক নথিপত্রে সিনেমাটির কোনো অগ্রগতির রেকর্ড নেই।


একদিকে নির্মাতাপক্ষের দাবি সিনেমাটি প্রস্তুত, অন্যদিকে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো নথিপত্র না থাকা—এই দুই বিপরীতমুখী তথ্যের গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে ‘এই তুমি সেই তুমি’। কবরীর জীবনের অন্যতম বড় এই স্বপ্নটি আদৌ কখনো আলোর মুখ দেখবে কি না, সেই উত্তর এখনো অনিশ্চিত।