খেলা

ঋতুপর্ণা-সাগরিকার গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩রা জুন ২০২৬, ১৯:৪১

ঋতুপর্ণা-সাগরিকার গোলে
 সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ঋতুপর্ণা-সাগরিকার গোলে

 সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ


শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় এক সেমি-ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমার দুর্দান্ত গোলে সমতা এবং শেষ মুহূর্তের যোগ করা সময়ে বদলি ফরোয়ার্ড সাগরিকার ম্যাজিক গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিটার জেমস বাটলারের দল। এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসরে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে পা রাখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, ছয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপার স্বাদ না পাওয়া নেপালের অপেক্ষার প্রহর আরও বাড়ল।

বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সাফের গত দুটি আসরের ফাইনালে এই নেপালকে হারিয়েই শিরোপা উৎসব করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েই তাদের মুখোমুখি হতে হয়।

এদিন ভারত ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনে দল সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে নামানো হয় আফঈদা খন্দকার, উমহেলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতিকে। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে মারিয়া মান্ডার পাসগুলো নিখুঁত ছিল না এবং রক্ষণভাগেও ছিল ছন্নছাড়া ভাব।

খেলার এই সুযোগটি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগায় নেপাল। ম্যাচের ২২তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার ভেতর দুর্বল ফিস্ট করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার। সেখান থেকে বল পেয়ে চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করে নেপালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গীতা রানী। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ, তবে ফরোয়ার্ডদের তাড়াহুড়োয় আক্রমণগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছিল। ৩৪ ও ৩৫ মিনিটে নেপালের দুটি নিশ্চিত আক্রমণ রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি গোলরক্ষক মিলি।

ম্যাচের লাগাম টেনে ধরতে ৩৮তম মিনিটে বড় চাল চালেন কোচ বাটলার। তরুণ উমহেলা ও প্রীতিকে তুলে মাঠে নামান অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে। এই পরিবর্তনের পরই খোলনলচে বদলে যায় বাংলাদেশের ফুটবল। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, ৪৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া একটি দর্শনীয় কর্নার কিক বাতাসে ভেসে নেপালি গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোমিতা খাতুনের জায়গায় মনিকা চাকমাকে মাঠে নামান কোচ। এই অর্ধেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ ছড়ায় ম্যাচ। একবার নেপালের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ, আবার বাংলাদেশের শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মনিকা চাকমা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে তুলে স্ট্রাইকার সাগরিকাকে মাঠে নামান কোচ, যা পরবর্তীতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর রেফারি ৬ মিনিট ইনজুরি সময় দেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাম দিক থেকে সতীর্থের পাস ধরে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল বাড়ান গোলমুখে, আর সেখানে ওত পেতে থাকা সাগরিকা নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ দল ও ডাগআউট। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের আনন্দে মেতে ওঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে নেপালের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও সমতা (৬টি করে জয়) আনল বাংলাদেশ।