জাতীয়

মিরপুরে বাসায় মায়ের গলিত লাশ: যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩রা জুন ২০২৬, ২০:০২

মিরপুরে বাসায় মায়ের গলিত লাশ: যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি



রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসায় নুরজাহান বেগম নামে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম সচিব ছেলে আনিসুর রহমানকে ওএসডি করা হয়েছে।


বুধবার সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত এ কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


নূর জাহান বেগম নামের ওই নারীর আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর এই নারীর যে ছেলে যুগ্ম সচিব, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আজ বুধবার বলেছিলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


ঘটনাটি নিয়ে আজ প্রথম আলোয় ‘মায়ের প্রতি এ কেমন অবহেলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নূর জাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। মরদেহের ফুটেজেও নূর জাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের সেকশন ৬, ব্লক সি, ১৩ নম্বর সড়কের ভবনটির চতুর্থ তলায় গিয়ে গণমাধ্যমের কর্মীরা দীর্ঘ সময় কলবেল দিয়ে অপেক্ষা করলেও কেউ দরজা খোলেননি। তবে ভবনটিতে থাকা এবং আশপাশের প্রতিবেশীরা বলছেন, ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারী যেভাবে মারা গেলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এলাকাবাসী এমন মৃত্যুকে অমানবিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও করা হয়। আইনে বলা হয়, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।