নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ঠা জুন ২০২৬, ১৯:১৩
আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির ভবন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। একই সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের চরম অবহেলা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজ ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী জানান, গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯০০ বর্গফুটের ২ নম্বর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত প্রায় ৫০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয় ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ওই সময়ে ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা বারবার ডাকলেও দায়িত্বরত সেবিকারা কোনো সাড়া দেননি এবং চিকিৎসকদের বিষয়টি জানাননি। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নার্সদের কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না এবং হাসপাতালের কোনো ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স’ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না।
ভবনের বৈধতা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রাজউকের অনুমোদনহীনভাবে ভবনের কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে, এমনকি নবম তলায় বেকারিও চালানো হচ্ছিল। এই অবহেলার কারণে হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে ৭২ ঘণ্টার (৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আইনে যতটুকু কঠোর হওয়ার সুযোগ আছে, আমি তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করব। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ।" তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর দেশব্যাপী বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এখন থেকে নতুন লাইসেন্স পেতে ভবন পরিদর্শন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নিহত নবজাতকদের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব না হলেও, আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।