অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ২১:২৩
শনিবার (৮ আগস্ট) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ জলপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে এই রুট দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হতো। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে এই জলপথ বন্ধ রেখেছে।
রয়টার্স জানায়, সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে এই জলপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের সমঝোতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি নতুন জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমান চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে প্রণালিটি সার্বিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া অন্যতম।
আরাকচি আরও উল্লেখ করেন, প্রণালির পুরোনো জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা এখন আর তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্থায়ী রুট নিয়ে কারিগরি ও আইনি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার আগে তারা ওমানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে আলোচনা করছেন।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তনের ওপর শর্তযুক্ত। আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক জলপথ নয়, এটি ইরানের ভূরাজনৈতিক শক্তি ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানের শর্তগুলো মেনে নেবে, তখনই কেবল প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং এই জলপথের চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সঙ্গে ইরানের এই চুক্তি সাময়িকভাবে সীমিত পরিসরে জ্বালানি পরিবহনের সুযোগ তৈরি করলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও উন্মুক্তকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।