নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ই অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৩
তিন বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ
চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনা করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর’ শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনা করে কমিটি। প্রকল্পের কাক্সিক্ষত ফল অর্জন ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির বিষয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনা এবং তিনটি বন্দরের দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি অর্থের সুরক্ষা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় কমিটি। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন। এছাড়া হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তিনটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।