নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ই অক্টোবর ২০২৬, ২০:১১
মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার এক দিন পর নিজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগনি জাইন মেরি খান। হাত, আঙুল ও পায়ের আঘাতের দাগ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আটকের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কঠিন বার্তাও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান জাইন। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এতটা ভয় দেখাবেন না, যাতে শুরুতেই আর কোনো ভয় অবশিষ্ট না থাকে।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইন্টারনেটে রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে দেয় সে।’ আটকের পর তার শরীরে দেখা দেওয়া আঘাতের চিহ্ন এবং এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আঘাতগুলো কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি অভিনেত্রী।
এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন জাইন মেরি, অভিনেতা ইমরান খান ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন। ইমরান আমির খানের ভাগনে এবং জাইন তার ভাগনি। আটকের সময় তাদের পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুক্তির পরও আটকের অভিজ্ঞতা নিয়ে সরব ছিলেন তিনজনই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে তারা ওই সময়ের ঘটনা তুলে ধরেন।
জাইনের অভিযোগ, আটকের পর তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে ইয়েলো গেট থানায় পৌঁছানোর পর কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চান তারা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
ইনস্টাগ্রামের একটি স্টোরিতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইন জানান, আটকের কারণ জানতে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বারবার প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর পাননি। তার দাবি, ওই কর্মকর্তা শুধু দুই মিনিট অপেক্ষা করতে বলছিলেন। অথচ তাকে দীর্ঘ সময় ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
আটকের সময় পুলিশের গাড়িতে বসেই প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায় ইমরান খানকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
ইমরানের অভিযোগ, আটকের পর প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের পুলিশের গাড়িতে ঘোরানো হয়। এ সময় কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চাইলেও স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ইমরানকে ‘জয় হিন্দ’ বলতে শোনা যায়। আটকের পর তার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে।
পুলিশের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথেও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন লেখা ওয়াশিংটন। শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি জানান, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে পরে দেওয়া আরেকটি পোস্টে লেখা অভিযোগ করেন, বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ি পেতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তার দাবি, তাদের নিতে রাজি হওয়া চালকদের পুলিশ হুমকি দিচ্ছিল। ফলে যানবাহন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টি নামের একটি সংগঠনের ডাকে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন ইমরান, লেখা ও জাইন।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীদের দাবি, তারা কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে ই-মেইল করলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি।