অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ঠা মে ২০২৬, ২২:২৩
দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ৪ মে ২০২৬, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে জয়ী বা এগিয়ে থেকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে নরেন্দ্র মোদির দল। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৭টি আসনে থমকে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে তীব্র প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং ধর্মীয় মেরুকরণ। দীর্ঘদিনের শাসনে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ এবং দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। বিজেপি এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’-এর পালে হাওয়া দিয়েছে। অনেক সাবেক তৃণমূল সমর্থকও এবার ‘মুসলিম তোষণ’-এর অভিযোগ তুলে দিদির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক দাপটকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়া, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধীদের দাবি, কৌশলগতভাবে একটি নির্দিষ্ট অংশের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা ফলাফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।
রাজনৈতিকভাবে এই জয় বিজেপির জন্য অত্যন্ত প্রতীকী। দলের আদর্শিক প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এই প্রথম ক্ষমতায় বসল গেরুয়া শিবির। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে, যিনি মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে এই পরাজয় সহজে মেনে নিচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ভিডিও বার্তায় তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের ‘বাঘের বাচ্চার মতো’ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, বরং ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া মোদি সরকারকে জাতীয় স্তরে পুনরায় শক্তিশালী করল এবং বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মমতার স্বপ্নকে বড়সড় ধাক্কা দিল। সামনেই রাজ্যে এক বিশাল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই জনরায়।