আন্তর্জাতিক

রুপালি পর্দা থেকে রাজপথ: তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৪ঠা মে ২০২৬, ২২:৩৬

রুপালি পর্দা থেকে রাজপথ: তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নায়কদের রাজনীতিতে আসা নতুন কিছু নয়। তবে ‘থালাপতি’ বিজয়ের রূপান্তরটি যেন আগের সব সমীকরণকে ছাপিয়ে গেছে। ৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত রাজনৈতিক দৃশ্যপট বলছে, পর্দার ‘সেনাপতি’ এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজগাম’ (TVK)-এর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে যে পরিমাণ জনসমাগম ঘটছে, তা অনেক ঝানু রাজনীতিবিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পর্দার ইমেজ যখন রাজনৈতিক অস্ত্র

বিজয় শৈশব থেকেই সিনেমার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার আজকের এই ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি ইমেজটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ফসল। সিনেমার পর্দায় তিনি প্রায়শই এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যারা শোষিত মানুষের পক্ষে একাই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে। দর্শক তাকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখেনি, বরং সেই চরিত্রের ভেতর নিজেদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা খুঁজে পেয়েছে। বিজয় নিজেও বলেছেন, “মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে শুধু স্ক্রিনে নয়, বাস্তবেও নামতে হয়।” এই নীতিই তাকে পর্দার নায়ক থেকে জননেতায় রূপান্তরিত করেছে।

রজনী ও কমল হাসান থেকে আলাদা কেন?

তামিল রাজনীতিতে রজনীকান্ত ও কমল হাসান বড় নাম হলেও বিজয়ের উত্থান ভিন্ন ধাঁচের। রজনীকান্ত তার আধ্যাত্মিক ও অতিমানবিক ইমেজ নিয়ে রাজনীতিতে আসার দোরগোড়া থেকে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, কমল হাসানের রাজনীতি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও উচ্চবিত্ত কেন্দ্রিক। বিজয় এখানে এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সহজ ভাষা ও আবেগ ব্যবহার করেছেন, যা সরাসরি তরুণ ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তার রাজনীতি কোনো জটিল তত্ত্ব নয়, বরং ‘জনতার অধিকার’ আর ‘পরিবর্তন’-এর এক সহজ বয়ান।

তরুণ প্রজন্মের জোয়ার

বিজয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তামিলনাড়ুর বিশাল তরুণ ভোটার গোষ্ঠী। তার দল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি জনসভায় তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা প্রথাগত দলগুলোর ওপর এক ধরনের ক্লান্তি অনুভব করছিল, যেখানে বিজয় এক ফ্রেশ বা নতুন বিকল্প হিসেবে হাজির হয়েছেন। তিনি যখন বলেন, “পরিবর্তন চাইলে শুধু দেখা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি,” তখন তা যুবসমাজের কাছে এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে পৌঁছায়।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

যদিও নির্বাচনী চূড়ান্ত ফলাফল আসা এখনও বাকি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে বিজয় কেবল ‘ক্রাউড পুলার’ বা ভিড় জমানো তারকা নন, তিনি এখন এক সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। সিনেমার প্রিমিয়ারের উত্তেজনাকে ছাড়িয়ে তার জনসভাগুলো এখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। তামিলনাড়ুর ক্ষমতার মঞ্চে পর্দার এই নায়কের বিজয় কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, বিজয়ের এই বিস্ময়কর উত্থান ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার কবিতা লিখে চলেছে।