নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১লা জুলাই ২০২৬, ২০:৩০
ইরানের পারমাণবিক অধিকার এবং দেশটির সীমারেখা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনার পরবর্তী ধাপে যাবে না।
৩০ জুন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির আওতায়।
দেশটি ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং তাদের কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে নিজের অধিকার বলে মনে করে জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলা হচ্ছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক অধিকার এবং রেড লাইনগুলো নিয়ে কোনো আপস হবে না। এগুলোকে দেশটির শক্তির উপাদান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে গালিবাফ বলেন, সমঝোতা স্মারকপত্রের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, লেবাননের যুদ্ধ শেষ হবে। আর কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে না, জনগণ তাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাবে এবং লেবাননের ভূমির ওপর দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব বজায় থাকার কথাও সমঝোতায় বলা আছে। এটি একটি অনেক বড় বিজয়। এটি অর্জন করতে হবে। ইরান এখন এর চূড়ান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানি স্পিকার আরও বলেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে। প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে ইরান পরিস্থিতি আরও খারাপ করার জন্য প্রস্তুত—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরান আলোচনা চালাচ্ছে। তবে অপরপক্ষ যদি আলোচনায় তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না চায়, তাহলে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৯ জুন বলেছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা দোহায় বৈঠক করবেন। আলোচনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং দূত জ্যারেড কুশনার ৩০ জুন দোহায় কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ওই আলোচনার মূল ফোকাস থাকবে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ওপর। তবে ইরান এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।