খেলা

হ্যারি কেইন বললেন, নিজেকে হালান্ডের চেয়ে আলাদা ভাবি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ২০:০৯

হ্যারি কেইন বললেন, নিজেকে হালান্ডের চেয়ে আলাদা ভাবি



বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষ দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আর্লিং হালান্ডকে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন হ্যারি কেইন। নরওয়েজিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে ‘গোলমেশিন’ ও ‘শারীরিকভাবে দানব’ বলে আখ্যা দিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক জানান, তাদের দুজনের খেলার ধরণ একেবারেই আলাদা। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গোলের চেয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোই তার বড় লক্ষ্য।


বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। সেই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হালান্ডকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার খেলোয়াড়। দুজনেই স্ট্রাইকার হলেও মাঠে আমাদের ভূমিকা আলাদা।’



এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন হালান্ড। নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই স্ট্রাইকার প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন সাত গোল। তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রেখেছে নরওয়ে। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়ের জয়ের নায়কও ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।


কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে হালান্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়ে কেইন বলেন, ‘আর্লিং অবিশ্বাস্য। তার গোল করার রেকর্ডই সব বলে দেয়। শারীরিকভাবেও সে একটা দানব, যেন আস্ত একটা মেশিন। তার ফিনিশিং নিখুঁত ও সর্বোচ্চ মানের।’



অন্যদিকে হ্যারি কেইনও রয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে। নিজের খেলার ধরন নিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমিও গোল পাচ্ছি। তবে আমি নিজেকে ওর চেয়ে একটু আলাদা ভাবি। আমি একটু নিচে নেমে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পছন্দ করি, বিল্ড-আপ প্লে-তে জড়িয়ে থাকতে ভালোবাসি। অবশ্য প্রয়োজনে পুরোদস্তুর নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারি।’


হালান্ডের সঙ্গে তুলনার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ফুটবলার ও পেশাদার হিসেবে ওর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা। অবশ্যই চাইব আগামীকাল যেন ওর দিনটি ভালো না কাটে। তবে মানতেই হবে ও একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’


বিশ্বকাপে গোলের দৌড়েও দুজনের অবস্থান কাছাকাছি। হালান্ডের করা সাতটি গোলের বিপরীতে কেইনের মোট গোল ছয়টি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাদের ওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের গোলসংখ্যা আটটি করে। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কেইন ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বমানের স্ট্রাইকাররা গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। এদিক থেকে এটি একটি দারুণ বিশ্বকাপ হচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টে সবসময় এমন দেখা যায় না।’


তিনি আরও বলেন, ‘এই তীব্র প্রতিযোগিতা আমাকে নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ জোগায়। আরেকটি গোল্ডেন বুট জেতার চেয়ে ট্রফি ছোঁয়াটাই আমার মূল স্বপ্ন। তবে আমি দলের প্রধান স্ট্রাইকার। আমার পা থেকে গোল এলে তা স্বাভাবিকভাবেই দলের স্বপ্নপূরণ সহজ করবে।’


১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক। কেইনের ভাষায়, ‘যতক্ষণ আমরা ট্রফি উঁচিয়ে না ধরছি, ইংল্যান্ডকে নিয়ে এই আলোচনা থামবে না। আমরা এখন দারুণ অবস্থানে আছি। ছয় সপ্তাহ আগে ক্যাম্প শুরুর সময় আমরা যেখানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিলাম, আজ সেখানেই দাঁড়িয়ে।’


দলের মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। অনেক কঠিন মুহূর্ত আর বাধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। এখন স্বপ্নের একদম শেষ আট দিনের লড়াই। ট্রফি জিততে হলে আমাদের প্রত্যেকে জীবনের সেরা পারফরম্যান্সটা উজাড় করে দিতে হবে।’

সব খবর