নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ২০:১৯
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকল করার সুযোগ না দেওয়ায় একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষকসহ অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষা চলছিল। শনিবার মোট ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও লিখিত প্রশ্ন অত্যন্ত কঠিন হয়েছে এবং তাদের কমন পড়েনি। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা দেখাদেখি ও নকল করার দাবি জানালে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ট্রল করা শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকেরা জানান, বেলা একটায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নেয় এবং মুঠোফোনে বহিরাগতদের ডেকে জড়ো করে। বেলা দেড়টার দিকে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কলেজের পেছনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কলেজের মূল প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এ ছাড়া অফিস কক্ষের দুটি এসি ও আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। ইটের আঘাতে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ অন্তত ৮-১০ জন আহত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রের শিক্ষকেরা শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করছিলেন; এমনকি সময় জানতে চাইলেও খাতা কেড়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হতো। এই ক্ষোভ এবং আজকের কঠিন প্রশ্নের জেরেই শিক্ষার্থীরা জানালার কাচ ও গ্রিলে ইট পাটকেল ছোড়ে।
ভোলার চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানান, উত্তেজিত ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ার জেরে কিছু ছাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা শিক্ষক, উপজেলার সব কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং স্টুডেন্টদের নিয়ে বসেছি। সবার সিদ্ধান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’