আন্তর্জাতিক

গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে কেন ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলছেন নেতানিয়াহু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ২১:১৪

গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে কেন ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলছেন নেতানিয়াহু



গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি করা ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি রোডম্যাপ প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন গাজায় রাজনৈতিক জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া, ঠিক তখন ট্রাম্পের মতো পরাক্রমশালী মিত্রকে এভাবে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ করার পেছনে নেতানিয়াহুর কট্টর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েল কোনোভাবেই সই করবে না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, হামাস যতক্ষণ না সম্পূর্ণ ও প্রকৃত অর্থে নিজেদের সমস্ত হালকা ও ভারী অস্ত্র সমর্পণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে এক চুলও সরবে না। কোনো প্রকার ‘কাগজে-কলমে ভুয়া নিরস্ত্রীকরণ’ মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।অথচ ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, তাতে হামাসের পর্যায়ক্রমিক অস্ত্র সমর্পণ এবং বিপরীতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা পাশাপাশি বলা হয়েছিল। যেখানে অস্ত্র গুদামজাতকরণ এবং অকেজো করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনা সরানোর কথা ছিল।  নেতানিয়াহু সাধারণত এ ধরনের জটিল ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক বিষয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান না নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখতেই পছন্দ করেন। কিন্তু এবার সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্পকে খেপিয়ে তোলার ঝুঁকি কেন নিচ্ছেন?আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব: আগামী অক্টোবর মাসে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু বেশ ব্যাকফুটে আছেন এবং তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসছেন। ফলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করা এখন তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।  কট্টর ডানপন্থী জোটের চাপ: ইসরায়েলের জোট রাজনীতিতে টিকে থাকতে নেতানিয়াহুকে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। এই মিত্ররা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন বা সেনা প্রত্যাহারের যেকোনো পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের ধরে রাখতেই নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এই অনমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন নেতানিয়াহু।  ভোটব্যাংকের মনস্তত্ত্ব: ইসরায়েলের সাধারণ ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও নিরাপত্তা ও সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কোনো প্রকার আধিপত্য বা ইসরায়েলি স্বাধীনতা সীমিত করাকে মেনে নিতে পারেন না। নেতানিয়াহু এই জাতীয়তাবাদী ও নিরাপত্তার অনুভূতিকে নিজের পক্ষে টানতে চাইছেন।  অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মূল্যে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় অর্জনে মুখিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও সম্প্রতি ট্রাম্পের এই রোডম্যাপের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। হামাস এই রোডম্যাপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অত্যন্ত হিসেবি কৌশল অবলম্বন করেছে, যাতে চুক্তি ভেস্তে গেলে দায় পুরোপুরি নেতানিয়াহুর ওপর চাপানো যায়।  নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন, ট্রাম্পকে চটানোর চরম মূল্য তাঁকে চোকাতে হতে পারে। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কৌশলবাজ হিসেবে পরিচিত এই নেতা আপাতত ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টির চেয়ে নিজ দেশের ডানপন্থী ভোটব্যাংক সুরক্ষিত করাকেই সবচেয়ে জরুরি পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সব খবর