জাতীয়

উজিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ই অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৪

উজিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

উজিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ


বরিশালের উজিরপুরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরের পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লিখে প্লাস্টার করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


ভুক্তভোগী উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি বরুণ মিত্র অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতা ও থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তিনি প্রতিকার পাননি। আগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও ফল না পাওয়ায় রোববার তিনি উজিরপুর মডেল থানায় আবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।




উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।



এদিকে সোমবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবিতে এ অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।




স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বরুণ মিত্র মন্দির সংলগ্ন ৪ শতক জমি কিনে সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের একাংশ ভাড়া দিয়ে অপর অংশ মন্দিরের ব্যবহারের জন্য দান করেন। প্রতি বছর বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভবনের ওই অংশ ব্যবহার করে আসছে।




বরুণ মিত্র জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নুরুজ্জামান খান দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। পরে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেন।




তিনি বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি। ঘটনার পর থানায় জিডি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জমির দলিল, বিএস পর্চা ও খাজনাসহ সব কাগজপত্র তার নামে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের ভূমিকা তাকে হতাশ করেছে। বরং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।




স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বৈধ ক্রেতা বরুণ মিত্র। একই খতিয়ানের ৮২ শতক জমি ১২টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে। ৫ আগস্টের অস্থিরতার সুযোগে নুরুজ্জামান খান বাড়িটি দখলে নেন।




উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু বলেন, "বরুণ মিত্রের বাড়ি অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।" তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, নুরুজ্জামান খান এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু, এর আগেও উজিরপুর মহিলা কলেজের জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন।




বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে নুরুজ্জামান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, তার জানামতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাড়িটি দখল হয়। জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় পুলিশের এখতিয়ার সীমিত। নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে সেখানে অভিযোগকারীকে পাওয়া যায়নি।




উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, "বরুণ মিত্র অনেক আগেই বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে মতভেদ থাকায় দখলমুক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"