খেলা

গোল করতে মুখিয়ে মাহি খান

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬শে অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৬

গোল করতে মুখিয়ে মাহি খান


নির্ভরযোগ্য একজন স্ট্রাইকারের খোঁজে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি এবার হাত বাড়িয়েছেন মোহাম্মদ মাহি খানের দিকে। নয় নম্বর জার্সির চাপটা কেমন, তা অজানা নয় ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ১৮ বছরের এই তরুণের। তবে বয়স অল্প হলেও সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে জালের দেখা পেতে আত্মবিশ্বাসী তিনি।



ঘরের মাঠে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন প্রায় ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার মাহি। ডান পায়ের এই খেলোয়াড় মূলত সেন্টার-ফরোয়ার্ড হলেও দুই উইংয়েই সমান দক্ষতায় অবদান রাখতে পারেন।


আমেরিকান কোচ ডুলির দেওয়া সুযোগ দুই হাতে লুফে নিতে ভীষণ মুখিয়ে আছেন মাহি। সোমবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের প্রথম দিনের অনুশীলন শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে আমার প্রথম ডাক এসেছে। আমি নিজে যেমন গর্বিত, আমার পুরো পরিবারও দারুণ খুশি।’


নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেও ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ইনশাআল্লাহ, আমি জালের দেখা পাব। কোচ আমার কাছে ঠিক কী চান, তা আমার পরিষ্কার জানা আছে। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি, গোল পাব। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ, আমরা সাফের শিরোপাও জিতব।’


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহি এখন খেলছেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের (নন-লিগ) দল মোল্টন এফসির হয়ে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে দারুণ ছন্দে আছেন তিনি। সাত ম্যাচ খেলে করেছেন নয় গোল। এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ডুলির নজর কেড়েছেন তিনি।


আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার বা স্ট্রাইকারের ভূমিকা সামলানোর চাপ কেমন, এমন প্রশ্নে মাহির স্পষ্ট জবাব, ‘কিছুটা চাপ তো থাকবেই। তবে আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ওপর এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তাই আমি একদমই নার্ভাস নই। শুরুর একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটাই উপহার দিতে চাই।’



এর আগে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলেছেন মাহি। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে দলের তিন ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। লেস্টার শহরের কাছে বেড়ে ওঠা এই তরুণ স্ট্রাইকার জানান, ডুলির ট্যাকটিক্যাল ভাবনায় নয় নম্বর জার্সিধারী হিসেবে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তার ধারণা একদম পরিষ্কার।


পাশাপাশি চোটের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নিজের ফিটনেস নিয়ে মাহি বলেন, ‘আমার হাত এখন পুরোপুরি ঠিক আছে। ইংল্যান্ডে ফেরার পর চেক-আপ করিয়েছি এবং ম্যাচও খেলেছি, কোনো সমস্যা হয়নি। অনুশীলনে যদি নিজের সেরাটা দিতে পারি, তবে আশা করি, শুরুর একাদশে মূল স্ট্রাইকারের জায়গাটি পাব।’


অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে উজবেকিস্তান সফরটি সহজ ছিল না মাহির জন্য। সেখানে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার হতাশা থাকলেও সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিতে চান তিনি, ‘উজবেকিস্তান সফরটি আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। হয়তো আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি, দল কিছুটা নার্ভাস ছিল। তবে সেই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি জাতীয় দলের হয়ে তা কাজে লাগাতে চাই