আন্তর্জাতিক

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, তাৎক্ষণিক জবাবের নির্দেশ খামেনির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১শে অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৭

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, তাৎক্ষণিক জবাবের নির্দেশ খামেনির


যেকোনো সম্ভাব্য শত্রু হুমকির জবাবে ‘ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।


সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে খামেনি বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনীকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। তার মতে, সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত এটি।


খামেনি বলেন, শত্রুরা যদি আবারও সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তাহলে কখন এবং কী শর্তে সেই সংঘাতের অবসান হবে, তা নির্ধারণ করবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানের জনগণ।




তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার আতাস জানান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর খামেনি সেনাবাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।


তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে ইরান দ্রুত, শক্তিশালী ও কার্যকর জবাব দেবে। সেই জবাবের পরিধি কোনো ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আটকে থাকবে না।


ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আগের দফাগুলোর তুলনায় আরও বিস্তৃত এলাকায় হামলা চালাতে পারে তেহরান।


খামেনি আরও বলেছেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে কখন এবং কী শর্তে তা শেষ হবে, সেটি ইরানই নির্ধারণ করবে। প্রতিবেদকের মতে, এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান জোরালো করার বার্তা দিয়েছে।


খামেনি চলমান উত্তেজনাকে ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, সেই সময়ের শত্রু ও হুমকিগুলো এখনো রয়ে গেছে।


বৈঠকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। ইরানের এই আধাসামরিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


আল-জাজিরার প্রতিবেদকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান শুধু বাইরের শত্রুর সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতিই নিচ্ছে না; দেশের ভেতরের বিরোধী শক্তি বা হুমকি মোকাবিলার পরিকল্পনাও করছে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।