জাতীয়

ক্ষমা চাইতে ব্যারিষ্টার সরোয়ারকে আইনি নোটিশ

Icon

সাবিনা ইয়াসমিন

প্রকাশ: ৫ই নভেম্বর ২০২৬, ১৯:১৬

ক্ষমা চাইতে ব্যারিষ্টার সরোয়ারকে আইনি নোটিশ

বিচার বিভাগ ও এক বিচারকের সন্মান ক্ষুন্ন করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টর আইনজীবী ব্যারিষ্টার এম সরোয়ার হোসেনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মেহেফুজ ইসলামের পক্ষে আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া বিচারক নাহীদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের সংবাদ সম্মেলনের কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণ করতে বলা হয়েছে। আইন সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, পিরোজপুরে বিচারক নাহিদ রুমানা মিতুর আদালতে মো. বাহাদুর হোসেন একটি মামলার বাদী ছিলেন। ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন তার ভাই। তিনি এবং তার পরিবার একাধিকবার চেষ্টা করেছেন তাদের পক্ষে মামলার রায় দেওয়ার জন্য বিচারককে প্রেসার ক্রিয়েট করতে। বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করেছেন। ভাইয়ের মামলার রায় যখন বিপক্ষে যায়, তখন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তিনি এই কাজটি করেছেন।

ইশরাত হাসান বলেন, মামলাটি নিয়ে তারা আপিল করেছেন, যা বিচারাধীন। অথচ সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বিচারককে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার হীন চেষ্টায় তিনি এই ব্রিফিংটা করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহফুজ ইসলাম নোটিশ পাঠিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কারণ বিচার বিভাগের সুনাম, এখানে মাত্র একজন বিচারকের বিষয় না। পুরা বিচার বিভাগ নিয়ে মানুষের কনফিডেন্স নষ্ট করেছে। সবাই এটা নিয়ে বিচার চাচ্ছে যে, কেন এরকম হলো। একই সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। কারণ এই ধরনের কন্টেন্টগুলো কোনো ধরনের ভিত্তি নেই। অর্থাৎ যার বিরুদ্ধে তো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, অথচ প্রমাণ হওয়ার আগেই শুধু তিনি একটা অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন রকম কথা মিডিয়ায় বলে দিলেন। সেখানে ওনাকে সারা বাংলাদেশের সামনে ছোট করলেন। শুধু তাই নয়, পুরো জুডিশিয়ারিকে ছোট করলেন। আমরা চেয়েছি আইন মন্ত্রণালয় যেন পদক্ষেপ নেয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় যেন কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলে। পাশাপাশি এম সারোয়ার হোসেন যেন পাবলিকলি ক্ষমা চান।

জানা গেছে, পিরোজপুরের স্যানিটারি ব্যবসায়ী আবুল কালামকে মাসিক দশ হাজার টাকা রেটে দেড় লাখ টাকা সুদে দেয় ব্যারিষ্টার সরোয়ারের ভাই মো. বাহাদুর হোনেস। জমানাত হিসেবে একটি চেক জমা নেয়। লেনদেনে বিলম্ব হওয়ায় আট লাখ টাকা দাবি করে চেক ডিজআরের মামলা করে। সেই মামলা বাদি পক্ষ পিরোজপুর যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের কাছে তাদের পক্ষে রায় চেয়েছিলো। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তীতে সঠিক রায় দেওয়ায় এখন সেই বিচারকসহ আদালতের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে ভিত্তীহিন অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিষ্টার সরওয়ার। তিনি বলেন, বিচারক নাহীদ রুমানা মিতু দুই বছর যাবৎ পিরোজপুর আদালতে আছেন। তিনি টাকা ছাড়া বিচারকাজ করেন না। তার পিওন ওয়াদুদ ও পেশকার ফারজানা কাজ করতে টাকা নেন।

জানা গেছে, বিচারক নাহীদ রুমানা মিতু পিরোজপুর আদালতে যোগদান করেছেন গত বছর জুনের শেষ দিকে। এছাড়া পিওন ওয়াদুদ তার কোর্টে কাজ করেন না। ওয়াদুদ কাজ করেন জেলা  আর ফারাজানাও প্রায় ৬ মাস আগে বদলি হয়েছেন।

ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ সম্বলিত তথ্য আছে কি-না, জানতে চাইলে ব্যারিষ্টার সরোয়ার যুক্তিযুক্ত কিছু বলতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী ওয়াদুদ আলী বলেন, আমি ওই কোর্টে কখনো কাজ করিনি। এই অভিযোগ পুরা মিথ্যা।

পেশকার ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। তার ভাইয়ের মামলা ছিলো। আসামী খালাস পেয়েছে। তাই তারা এখন এসব করছে। ওনারা কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না। এই অভিযোগ একদম ভূয়া।