নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ই মে ২০২৬, ১৯:০৫
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ১১ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ বা হাম সন্দেহে মারা গেছেন ২৭৯ জন। অর্থাৎ, দেড় মাসের ব্যবধানে হাম সংশ্লিষ্ট কারণে মোট ৩৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৩৮ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ২৮৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনে। এর মধ্যে ৬ হাজার ২০৮ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার বিষয়ে অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৯১২ জন। তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ হাজার ২৩৮ জন। বর্তমানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকালের তথ্যে একটি বড় ধরনের সংশোধনী দিয়েছে। গতকাল হবিগঞ্জ জেলায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৯ জন উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আজকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই তথ্যটি ভুল ছিল; প্রকৃতপক্ষে সেখানে নিশ্চিত রোগী ছিলেন মাত্র ২ জন। আজকের প্রতিবেদনে এই তথ্যটি যথাযথভাবে সমন্বয় করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব বয়সীদেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই ভাইরাসের বিস্তার বাড়ে। জটলা এড়িয়ে চলা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সরকারি পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার দাবিও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।