অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই মে ২০২৬, ১৯:২২
তামিলনাড়ুর রুপালি পর্দার মেগাস্টার থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেক রূপকথার মতো শুরু হলেও, সরকার গঠনের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজভবন। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ না থাকায় শপথ গ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
রাজ্যপাল বনাম বিজয়: ম্যাজিক ফিগারের লড়াই
গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। প্রয়োজনীয় ১০টি আসনের ঘাটতি মেটাতে বিজয় ইতিমধ্যে কংগ্রেসের (৫টি আসন) সমর্থন নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বামপন্থী দল ও ভিসিকে’র মতো ছোট দলগুলোর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা চলছে। জোট সফল হলে বিজয়ের পক্ষে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন থাকবে।
তবে বিপত্তি বেঁধেছে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের অনড় অবস্থানে। বুধবার বিজয় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেতে দেখা করতে গেলে রাজ্যপাল সাফ জানিয়ে দেন, শপথ নেওয়ার আগেই ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত সমর্থনের চিঠি তাঁকে দেখাতে হবে। রাজ্যপাল মনে করছেন, কংগ্রেসের সমর্থন থাকলেও বাকি ৫টি আসনের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বিজয়কে আমন্ত্রণ জানাবেন না। এই অচলাবস্থা নিরসনে টিভিকে এখন আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
পুরোনো মামলার কাঁটা ও বিজেপির অবস্থান
বিজয়ের এই সংকটময় মুহূর্তে আগুনের ঘি ঢেলেছে ২০১৫ সালের একটি আয়কর মামলা। ‘পুলি’ সিনেমা চলাকালীন আয়কর সংক্রান্ত ‘অনিয়মের’ অভিযোগে বিজয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মাদ্রাজ হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি বিজয়ের শপথের পথে বড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্যপালের পক্ষ নিয়ে দাবি করছে, বিজয়ের কাছে প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
এককাট্টা বিরোধীরা ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন
রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছে বিদায়ী শাসক দল ডিএমকে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জায়গা হলো বিধানসভা, রাজভবন নয়। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে সরব হয়ে বলেছেন, “১০৮ আসন জেতার পরও তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানো তামিলনাড়ুর মানুষের রায়ের প্রতি অসম্মান।” ভিসিকে প্রধান থিরুমাভালাভানও রাজ্যপালকে তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আগামী ১০ মে পর্যন্ত সময়
বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ মে। এর মধ্যেই বিজয়কে তাঁর শক্তির প্রমাণ দিতে হবে। যদি তিনি ১১৯ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিতে পারেন, তবেই তিনি সি এন আন্নাদুরাই, এমজিআর বা জয়ললিতার মতো রুপালি পর্দা থেকে সরাসরি রাজসিংহাসনে বসার গৌরব অর্জন করবেন। তবে রাজভবন বনাম বিধানসভার এই সংঘাত তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা এখন দেখার বিষয়। সিনেমাটিক কায়দায় শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক রোমাঞ্চে শেষ হাসি বিজয় হাসতে পারেন কি না, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।