নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ই মে ২০২৬, ১৯:১৪
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন একজন নিহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে এ বিষয়ে আদেশ পরে দেবেন বলে অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
অভিযুক্তদের তালিকা
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও আরও ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিমান বাহিনীর এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, রাজউকের চেয়ারম্যান এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নূরনবী।
মামলার অভিযোগসমূহ
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুলের ওপর বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। বাদিপক্ষের অভিযোগ, তৎকালীন সরকার প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমান এই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে তিনি ‘প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ও শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে উদ্ধার কার্যক্রমে কার্যকর নির্দেশনা দিতে ব্যর্থতা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘ত্রুটিযুক্ত’ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অনুমতি দিয়ে দায়িত্বে অবহেলার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৭২ জন আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। আমরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
উল্লেখ্য, গত বছর ২১ জুলাই দিয়াবাড়িতে ওই দুর্ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার দীর্ঘ সময় পর নিহত এক শিক্ষার্থীর বাবার এই মামলার আবেদন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালত পরবর্তী পদক্ষেপে আবেদনটি গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে এখন সবার নজর।