জাতীয়

এইচএসসির প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৪ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী, ঝরে পড়েছে ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২রা জুলাই ২০২৬, ১৯:২৯

এইচএসসির প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৪ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী, ঝরে পড়েছে ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী




সারাদেশে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। তবে প্রথম দিনেই সংখ্যার বিচারে রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের ঝরে পড়ার চিত্র উদঘাটিত হয়েছে। ফরম পূরণ করেও পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর পাশাপাশি, একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও এবার চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী।

আজ বৃহস্পতিবার দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ হাজার ২৩৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পরীক্ষায় অনুপস্থিতির চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার। শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, দুই বছর আগে এসএসসি পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু এবার এইচএসসির জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের মতো শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগেই শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে গেছেন।

এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ছিটকে পড়াকে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা ও খারাপ সূচক হিসেবে দেখছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়। কিন্তু এবার দেখা গেছে কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ এবং সাধারণ বোর্ডে ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। এটি অত্যন্ত খারাপ একটি ইন্ডিকেটর।"

শিক্ষামন্ত্রী এর কারণ বিশ্লেষণ করে বলেন, বর্তমানে পরীক্ষার হলগুলোতে কড়াকড়ি ও প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির কারণে প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই। অনেকে প্রস্তুতি ঘাটতির কারণে ফরম পূরণ করেনি। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পড়াশোনা না হওয়া এবং মেয়েদের বিয়ে বা পারিবারিক কাজে যুক্ত হওয়াও এর অন্যতম কারণ। এই সংকট উত্তরণে শিক্ষা প্রশাসন ভবিষ্যতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

সব খবর