জাতীয়

গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭শে জুলাই ২০২৬, ২০:৩৫

গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী

দেশে চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুনের কারণে গ্যাস খালাস ব্যাহত হওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।


আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।



মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এ কারণে এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।


কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের আমদানিকৃত এলএনজি রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি পরিচালনা করে সামিট। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।



ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।


বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় থেকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। এসব বিল পরিশোধে সরকারকে নিয়মিত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।


সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী আগস্টের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত দর–কষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব খবর