আন্তর্জাতিক

মাঝআকাশে ফ্লাইটে রুদ্ধশ্বাস ১২ মিনিট: পাইলট ও যাত্রীদের সাহসিকতায় বিধ্বস্ত হওয়া থেকে বাঁচালেন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩রা অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১০

মাঝআকাশে ফ্লাইটে রুদ্ধশ্বাস ১২ মিনিট: পাইলট ও যাত্রীদের সাহসিকতায় বিধ্বস্ত হওয়া থেকে বাঁচালেন

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ এক রোমহর্ষক ও নিশ্চিত বিপর্যয়ের মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছে। মাঝআকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলা এবং উড়োজাহাজটি খাড়া নিচের দিকে আছড়ে ফেলার চেষ্টার মধ্যেও ক্রু ও সাধারণ যাত্রীদের চরম সাহসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে ১৭৪ জন আরোহী নিরাপদে বেঁচে ফিরেছেন।


ভয়াবহ সেই ১২ মিনিট


গত বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটটি ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু যাত্রার দুই ঘণ্টা পর হঠাৎই সেটি তীব্র গতিতে খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। কেবিনজুড়ে নেমে আসে চরম বিশৃঙ্খলা। বিদ্যুৎ–সংযোগ ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা দিক্‌বিদিক জ্ঞান হারিয়ে চিৎকার শুরু করেন।


ককপিটে জীবনপণ লড়াই


তদন্তে জানা গেছে, মাঝআকাশেই ককপিটের ভেতরে সহকারী পাইলট হঠাৎ মূল পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মছারকে ছুরিকাঘাত করে বসেন। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে ক্যাপ্টেন মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি জানান, “আমি যখন রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ি, বুঝতে পারছিলাম উড়োজাহাজটি খাড়া নিচের দিকে পড়ছে। কিছু একটা করার সেটাই ছিল আমার শেষ সুযোগ।” শেষ শক্তি দিয়ে ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি, যাতে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকতে পারেন।


ইসরায়েলি প্লাম্বারের বীরত্ব


চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন ফ্লাইটে থাকা ইসরায়েলি প্লাম্বার (পানির লাইনের মিস্ত্রি) ইয়ানিভ হায়ুনসহ অন্য যাত্রীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে জানান, প্রবল মহাকর্ষীয় বলের (জি-ফোর্স) মধ্যেও ইয়ানিভ হামলাকারী সহকারী পাইলটকে আসন থেকে টেনেহিঁচড়ে পেছনে ফেলে দেন। ক্যানেডিয়ান টিভি শো দেখার অভিজ্ঞতা থেকে ইয়ানিভ এক লাফে ককপিটের ভেতরে ঢুকে কন্ট্রোল স্টিক চেপে ধরে ওপরের দিকে টানতে শুরু করেন। এরপর অন্য যাত্রীরা তারের হেডফোন দিয়ে হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনের আসন থেকে এক পেশাদার পাইলট ককপিটে পৌঁছে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন।


জরুরি অবতরণ ও বিশ্বনেতাদের প্রশংসা


চীনা বংশোদ্ভূত এক দন্তচিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে আহত ক্যাপ্টেন স্মিথ মছারের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করেন, যা তাঁর জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখে। এরপর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করে এবং গ্রিনিচ মান সময় ০৬:৫৮ মিনিটে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।


এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাইলট স্মিথ মছার ও যাত্রীদের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ক্যাপ্টেন মছার এখন আশঙ্কামুক্ত এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।